Skip to main content

(১০) নতুন সংসারে ঘাত-প্রতি-ঘাত সহ্য করে প্রশান্তির সুবাতাস: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ


প্রারম্ভিক কথা: নতুন সংসার জীবনে নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। সংসারের প্রথম দিকের কঠিন সময়গুলোতে সহানুভূতি, ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে পারা প্রয়োজন। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে এই কঠিন সময়গুলো সহ্য করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মনোজ্ঞ প্রশান্তির সুবাতাস অনুভব করা যায়। এখানে আলোচনা করব, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন সংসারে ঘাত-প্রতি-ঘাত সহ্য করার উপায়।

১. ধৈর্য ধারণ করা:

ইসলামে ধৈর্য ধরার গুরুত্ব অপরিসীম। নবী (সা.) বলেছেন: "ধৈর্য ধারণ করো, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (আল-বাকারাহ: 153)। সংসারের নতুন পরীক্ষাগুলোতে ধৈর্য ধারণ করলেই আপনি আল্লাহর সাহায্য পাবেন এবং শান্তি অনুভব করবেন।

২. আল্লাহর উপর ভরসা রাখা:

নতুন সংসারে অনেক সময় হতাশা এবং বিপদ আসবে। ইসলামে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে আল্লাহর উপর তাওকুল করে, সে সফল হয়।" (আল-ইমরান: 159)। আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে, প্রতিটি সংকটকে সহজ মনে হবে এবং শান্তি আসবে।

৩. ধৈর্য ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা:

নতুন সংসারে মাঝে মাঝে মতবিরোধ ও সমস্যার সৃষ্টি হয়, তবে ইসলামে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করার জন্য বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন: "তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো এবং ধৈর্য ধারণ করো, আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন।" (আল-ইমরান: 200)। সহানুভূতির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪. নামাজ ও দোয়া করা:

নতুন সংসারে শান্তি এবং প্রশান্তি লাভের জন্য নিয়মিত নামাজ এবং দোয়া অত্যন্ত কার্যকরী। রাসূল (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নামাজ ঈমানদারের জন্য শান্তির একটি উপায়।" (আল-ইমরান: 143)। প্রতিটি সংকট বা দুশ্চিন্তা আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে দোয়া করা, আপনার জীবনে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা এনে দিবে।

৫. তাঁহার উপর খোদার ওপর ভরসা রাখা:

প্রত্যেক সংসারে কিছু সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। আল্লাহ বলেন: "আমি তোমাদেরকে কিছুটা ভয়, ক্ষতি এবং খাবারের অভাব দিয়ে পরীক্ষা করি, কিন্তু তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখো, তবে নিশ্চয়ই তা তোমাদের জন্য উত্তম।" (আل-বাকারাহ: 155)। এই বিশ্বাস আপনাকে শান্তির অনুভূতি দিবে।

৬. তানাসু:

অপরের প্রতি খারাপ চিন্তা বা অভিযোগ নয়, বরং ভালো দিকগুলো দেখে প্রশংসা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা একে অপরকে ভালোবাসো এবং একে অপরকে সহায়তা করো।" (মুসলিম)। সংসারে সুখ ও শান্তি বজায় রাখতে ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করা খুবই জরুরি।

৭. নিজের অধিকার বুঝে নেওয়া:

কোনও অবস্থায় নিজেদের অধিকার সঠিকভাবে বুঝে নেয়া ইসলামিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন: "তোমরা নিজেদের অধিকার দাবি করতে ভুলো না।" (আল-হাশর: 18)। তবে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সময় নম্রতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।

উপসংহার:

নতুন সংসারে ঘাত-প্রতি-ঘাত সহ্য করা আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস, ধৈর্য এবং সহানুভূতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্ভব। নামাজ, দোয়া, ভালো দিকগুলো দেখার মাধ্যমে শান্তি ও প্রশান্তি লাভ করা যায়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা যায় এবং পরিবারের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, যা একজনের জীবনে প্রশান্তির সুবাতাস নিয়ে আসে।

Comments

Popular posts from this blog

(০৫) অতিরিক্ত কান্না: শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা

প্রারম্ভিক কথা: কান্না এক ধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া, যা মানুষের মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। কখনো কখনো কান্না স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে অতিরিক্ত কান্না শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইসলামের শিক্ষাও আমাদের জানায় যে, অতিরিক্ত কান্না ক্ষতিকর হতে পারে। এই আর্টিকেলে তুমি অতিরিক্ত কান্নার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। ১. মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়ানো: অতিরিক্ত কান্না মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। কান্নার মাধ্যমে তুমি তোমার দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করতে পারো, তবে অতিরিক্ত কান্না মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার অনুভূতি আরও বৃদ্ধি করে। হাদিসে এসেছে, "আল্লাহ বলছেন, তুমি যদি ধৈর্য ধারণ না করো, তবে কষ্ট তোমার উপর বেড়ে যাবে।" (সহীহ মুসলিম) ২. শারীরিক ক্ষতি: কান্নার সময় শরীরে কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যেমন হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। যদি তুমি দীর্ঘ সময় ধরে কান্না করো, এটি শরীরের উপর চাপ ফেলতে পারে, যা হৃদয়ের এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হাদিসে বলা হয়েছে, "ধৈর্যশীলরা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্ক...

(০১) জীবন পরিচালনায় সুন্দর দিকনির্দেশনা

তোমার জীবনের এমন একটি সময় চলছে, যা হয়তো অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন নিয়ে এসেছে। নতুন সংসার, নতুন দায়িত্ব এবং ভালোবাসার আশা—সবকিছু মিলিয়ে একটি সুন্দর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নে যখন আঘাত আসে, তখন মনে হয়, যেন সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে। মনে রেখো, এই সময়টুকু শুধু একটি পরীক্ষা। আল্লাহ আমাদের জীবনে পরীক্ষা দেন, যাতে আমরা আরো শক্তিশালী হতে পারি। নিচে তোমার জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো, যা তোমার মনে সাহস এবং পথপ্রদর্শনের আলো জ্বালাবে। ১. নিজের মূল্য বোঝো আল্লাহ তোমাকে সেরা অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কুরআনে বলেন, ‘আমি মানুষকে সেরা অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’ (সূরা আত-তীন, ৯৫:৪) তোমার নিজের মূল্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি তোমাকে ছোট করে দেখে, তা আল্লাহর দেয়া সম্মানের অবমূল্যায়ন। নিজের মর্যাদাকে কখনো অবহেলা করো না। তুমি আল্লাহর অমূল্য সৃষ্টি। ২. সম্পর্কের মূল ভিত্তি: সম্মান ও ভালোবাসা বিয়ে শুধু ভালোবাসার জন্য নয়, এটি একটি প্রতিশ্রুতি এবং সম্মানের বন্ধন। নবী করিম (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (তিরমিজি, ১১৬২) যদি তোমার স্বামী এই সম্মা...

Storex