Skip to main content

(১৮) আমার আল্লাহকে চাই

আল্লাহ তাআলা সব কিছুর মালিক এবং আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চাহিদা। যখন আমরা একমাত্র আল্লাহর দিকে আগ্রহী হই, তখন আমরা শান্তি, প্রশান্তি, এবং আত্মিক তৃপ্তি অর্জন করতে পারি। আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাদের জীবন পরিচালনা করা উচিত তাঁর হুকুম অনুযায়ী, এবং তাঁর কাছে আমাদের হৃদয়কে নিবেদন করা উচিত।

১. আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা:

আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা হলো হৃদয়ের একান্ত আকাঙ্ক্ষা। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করেন। আল্লাহকে ভালোবাসা এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করা আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

কুরআন:
"যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের বিশ্বাস দৃঢ় করেছে, তাদের জন্য আল্লাহ প্রিয়।"
(আল-বাকারা ২:১৭৫)

২. আল্লাহর প্রতি দোয়া:

আমরা যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাই, তখন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাস থাকতে হবে যে, তিনি আমাদের সকল প্রয়োজন পূর্ণ করতে সক্ষম। দোয়া হলো আল্লাহর কাছে আমাদের আবেদনের একটি মাধ্যম।

হাদিস:
“তোমরা দোয়া করো, কারণ দোয়া আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।”
(তিরমিজি)

৩. তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা:

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের গুনাহ (পাপ) ক্ষমা চেয়ে তওবা করি এবং তাঁর কাছে ফিরে আসি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সব পাপ মাফ করে দেন, যদি আমরা আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে তওবা করি।

কুরআন:
"নিঃসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়া পরায়ণ।"
(আল-ইমরান ৩:১৩)

৪. হেদায়েত প্রাপ্তি:

আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ দেখান এবং তিনি আমাদের সাহায্য করেন যদি আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তাঁর কাছ থেকে হেদায়েত চাওয়া আমাদের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

কুরআন:
"হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাও।"
(আল-ফাতিহা ১:৬)

উপসংহার:

আমরা যদি আল্লাহকে চাই এবং তাঁর কাছে সব কিছু সোপর্দ করি, তবে আমাদের জীবন আল্লাহর রহমত এবং দয়ার আলোয় পূর্ণ হয়ে উঠবে। আমাদের হৃদয়ের শান্তি ও প্রশান্তি তাঁর উপর নির্ভর করে, এবং তিনি আমাদের জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেন। আল্লাহর পথে চলা আমাদের জন্য পরিপূর্ণ শান্তির এবং মুক্তির পথ।

Comments

Popular posts from this blog

Storex

 

(০৫) অতিরিক্ত কান্না: শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা

প্রারম্ভিক কথা: কান্না এক ধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া, যা মানুষের মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। কখনো কখনো কান্না স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে অতিরিক্ত কান্না শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইসলামের শিক্ষাও আমাদের জানায় যে, অতিরিক্ত কান্না ক্ষতিকর হতে পারে। এই আর্টিকেলে তুমি অতিরিক্ত কান্নার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। ১. মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়ানো: অতিরিক্ত কান্না মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। কান্নার মাধ্যমে তুমি তোমার দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করতে পারো, তবে অতিরিক্ত কান্না মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার অনুভূতি আরও বৃদ্ধি করে। হাদিসে এসেছে, "আল্লাহ বলছেন, তুমি যদি ধৈর্য ধারণ না করো, তবে কষ্ট তোমার উপর বেড়ে যাবে।" (সহীহ মুসলিম) ২. শারীরিক ক্ষতি: কান্নার সময় শরীরে কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যেমন হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। যদি তুমি দীর্ঘ সময় ধরে কান্না করো, এটি শরীরের উপর চাপ ফেলতে পারে, যা হৃদয়ের এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হাদিসে বলা হয়েছে, "ধৈর্যশীলরা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্ক...

(১৪) হতাশা ও চিন্তা থেকে মুক্তি: ইসলামের আলোকে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরে আনা

জীবনে কখনও কখনও আমরা হতাশা, দুঃশ্চিন্তা এবং মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যাই। কিন্তু ইসলামের উপদেশ অনুসরণ করে, আমরা আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরে পেতে পারি। ইসলামে রয়েছে এমন কিছু দোয়া, কাজ এবং চিন্তা যা আমাদের হতাশা দূর করে এবং শান্তি আনে। ১. আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস: যখন তুমি হতাশ হয়ে পড়ো, তখন মনে রেখো আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখো। আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত নিকটে।" (আত-তাওবা: 51)। আল্লাহর রহমত এবং সাহায্য সবসময় আমাদের পাশে থাকে, আমাদের উচিত এই বিশ্বাসে দৃঢ় থাকা। ২. সালাত ও দোয়া: ইসলামে সালাত এবং দোয়ার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস এবং প্রশান্তি পাওয়া যায়। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা দোয়া করো, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাছে সাড়া দেবেন।" (বুখারি)। নিয়মিত সালাত পড়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা আমাদের মনকে শান্ত রাখে। ৩. ধৈর্য ও শোকর (আলহামদুলিল্লাহ): যখন তোমার মনে হতাশা আসে, তখন ধৈর্য ধরো এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আল্লাহ বলেন, "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং আল্লাহর শুকরিয়া করো, নিশ্চয়ই তোমরা এইভাবে শান্তি ও প্রশান্তি পাবে।" (আল-বাকারা: 153) ৪. নিজেক...