Skip to main content

(১৭) স্বামীকে নিজের কাছে অতি প্রিয় করে তোলার ইসলামিক উপায়


স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামীকে নিজের কাছে অতি প্রিয় করে তোলার জন্য ইসলামের কিছু বিশেষ দিক অনুসরণ করা যায়, যা সম্পর্ককে আরো গভীর এবং মধুর করবে।

১. ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণ করা:

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত্তি হলো আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য। স্বামীকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, এবং তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

“এবং তাদের (স্ত্রীর) মধ্যে যারা বিশ্বাসী, যারা নিজস্ব কাজের জন্য সবচেয়ে ভালোবাসা এবং যারা তাদের স্বামীদের সঙ্গী হিসেবে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করবে।”
(আল-ফুরকান ২৫:৬৭)

২. স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন:

স্বামীকে নিজের কাছে অতি প্রিয় করতে হলে তাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা জরুরি। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে শ্রদ্ধা, প্রশংসা, এবং মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিস:
"যে স্ত্রীর কাছে তার স্বামী সবচেয়ে প্রিয়, সে নারীকে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।"
(সাহিহ মুসলিম)

৩. দোয়া ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া:

স্ত্রী হিসেবে তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারো, যেন আল্লাহ তোমার স্বামীকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তোমাদের সম্পর্ক ভালোবাসায় পূর্ণ থাকে। দোয়া মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য লাভ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিস:
“তোমরা দোয়া কর, কারণ দোয়া আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।”
(তিরমিজি)

৪. তুমি স্বামীকে প্রশংসা করো:

স্বামীকে প্রশংসা করার মাধ্যমে তাকে ভালোবাসা এবং সমর্থন দেখানো যায়। স্বামী যদি তার কাজ বা প্রয়াসে সফল হয়, তখন তাকে প্রশংসা করা তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এটি সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে।

হাদিস:
“যে কেউ তার স্বামীকে প্রশংসা করবে, আল্লাহ তাকে এর জন্য পুরস্কৃত করবেন।”
(বুখারি)

৫. ধৈর্য এবং সহানুভূতি প্রদর্শন করা:

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ধৈর্য ধরে একে অপরকে সহানুভূতির সাথে সমর্থন জানানো সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে। যেকোনো সমস্যা বা অসুবিধা আসলে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সহায়তা করা উচিত।

হাদিস:
“সকলেই ধৈর্য ধরে একে অপরকে সাহায্য করবে।”
(আবু দাউদ)

৬. নিজের সময় ও যত্ন প্রদান করা:

স্বামীকে নিজের কাছে প্রিয় করতে হলে তাকে সময় দিন এবং তার প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখুন। স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, স্বামীর অনুভূতি এবং প্রয়োজনের প্রতি যত্নবান হওয়া। তার শখ এবং ভালোবাসার প্রতি খেয়াল রেখে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানো যায়।

৭. আল্লাহর নির্দেশমত জীবন যাপন করা:

স্বামী-স্ত্রী উভয়কে একে অপরের প্রতি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে। যদি আল্লাহর পথে একে অপরকে চলতে সহায়তা করা হয়, তবে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়।

উপসংহার:

স্বামীকে নিজের কাছে অতি প্রিয় করে তোলার জন্য ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণ করা, শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর করা, এবং আল্লাহর সাহায্য চাওয়া প্রয়োজন। যদি তুমি এসব উপায় অনুসরণ করো, তবে তোমার সম্পর্ক সবার জন্য একটি আদর্শ হয়ে উঠবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হবে।

Comments

Popular posts from this blog

(০৫) অতিরিক্ত কান্না: শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা

প্রারম্ভিক কথা: কান্না এক ধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া, যা মানুষের মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। কখনো কখনো কান্না স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে অতিরিক্ত কান্না শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইসলামের শিক্ষাও আমাদের জানায় যে, অতিরিক্ত কান্না ক্ষতিকর হতে পারে। এই আর্টিকেলে তুমি অতিরিক্ত কান্নার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। ১. মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়ানো: অতিরিক্ত কান্না মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। কান্নার মাধ্যমে তুমি তোমার দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করতে পারো, তবে অতিরিক্ত কান্না মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার অনুভূতি আরও বৃদ্ধি করে। হাদিসে এসেছে, "আল্লাহ বলছেন, তুমি যদি ধৈর্য ধারণ না করো, তবে কষ্ট তোমার উপর বেড়ে যাবে।" (সহীহ মুসলিম) ২. শারীরিক ক্ষতি: কান্নার সময় শরীরে কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যেমন হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। যদি তুমি দীর্ঘ সময় ধরে কান্না করো, এটি শরীরের উপর চাপ ফেলতে পারে, যা হৃদয়ের এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হাদিসে বলা হয়েছে, "ধৈর্যশীলরা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্ক...

(০১) জীবন পরিচালনায় সুন্দর দিকনির্দেশনা

তোমার জীবনের এমন একটি সময় চলছে, যা হয়তো অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন নিয়ে এসেছে। নতুন সংসার, নতুন দায়িত্ব এবং ভালোবাসার আশা—সবকিছু মিলিয়ে একটি সুন্দর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নে যখন আঘাত আসে, তখন মনে হয়, যেন সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে। মনে রেখো, এই সময়টুকু শুধু একটি পরীক্ষা। আল্লাহ আমাদের জীবনে পরীক্ষা দেন, যাতে আমরা আরো শক্তিশালী হতে পারি। নিচে তোমার জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো, যা তোমার মনে সাহস এবং পথপ্রদর্শনের আলো জ্বালাবে। ১. নিজের মূল্য বোঝো আল্লাহ তোমাকে সেরা অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কুরআনে বলেন, ‘আমি মানুষকে সেরা অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’ (সূরা আত-তীন, ৯৫:৪) তোমার নিজের মূল্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি তোমাকে ছোট করে দেখে, তা আল্লাহর দেয়া সম্মানের অবমূল্যায়ন। নিজের মর্যাদাকে কখনো অবহেলা করো না। তুমি আল্লাহর অমূল্য সৃষ্টি। ২. সম্পর্কের মূল ভিত্তি: সম্মান ও ভালোবাসা বিয়ে শুধু ভালোবাসার জন্য নয়, এটি একটি প্রতিশ্রুতি এবং সম্মানের বন্ধন। নবী করিম (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (তিরমিজি, ১১৬২) যদি তোমার স্বামী এই সম্মা...

Storex